সৌরভ

ঋতুকে অনেকদিন পর দেখলাম। কী আশ্চর্য, আমার চিনতে কিছুটা সময় লাগলো।আগের চেয়ে একটু মোটা হয়েছে, শাড়ি পড়ে আছে- তাই হয়তো কিছুটা অন্য রকম লাগছে, তাই বলে ওকে চিনতে সামান্যও কষ্ট হবে এটা কি কখনো ভেবেছি! ডমেস্টিক ফ্লাইটের লাউঞ্জে একটা বাচ্চা মেয়েকে হাতে ধরে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। চোখাচোখি হয়ে গেছে, কথা না বলে উপায় নেই। সাথে রিমি ছিল, তাই একটু অস্বস্তি হচ্ছিলো তবু কাছে গিয়ে কথা না বলে পারলাম না। রিমিকে পরিচয় করিয়ে দিলাম ওর সাথে।‘ঋতু অনেক ভাল বন্ধু ছিল কলেজ জীবনে, বুঝছো!’ হেসে বললাম রিমিকে।ঋতুর দৃষ্টি দেখেই বুঝেছি মনের কোন গহীণ কোনে ধাক্কা লেগেছে, তবে সামলে নিয়ে রিমির সাথে গল্প জুড়ে দিল। ঋতুর মেয়েটা দেখতে কেমন অবিকল ঋতুর মতই, বড় বড় বিষাদমাখা চোখ। রিমি বাচ্চাটাকে ধরে আদর করার চেষ্টা করলো, ‘মেয়েটা অনেক লাজুক দেখছি, একদমই মায়ের কোলে ঢুকে আছে। এই তোমার নাম কি মা?’ রিমি জিজ্ঞেস করে হাত ধরে।‌‌ 'ম...ন্টি’ মেয়েটা আধো বোলে অবশেষে বলল। ‌‌'মন্টি? কী আশ্চর্য! আমার বড় মেয়ের নামও তো মন্টি! দারুণ তো!’ তারপর ঋতুর দিকে ফিরে বলল,‌‍’অবশ্য তোমার বন্ধুই নামটা দিয়েছে জোর করে, ও নাকি অনেক আগে থেকেই ভেবে রেখেছে ওর মেয়ের নাম হবে মন্টি, কী অদ্ভুত কথা দেখো তো!’ কথাটা বলার পর হঠাৎ একটা অচেনা নীরবতা নেমে আসে লাউঞ্জে, রিমি কী এক আশংকায় থমকে যায় যেন। ঋতুও আর কিছু না বলে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর একরাশ বিহ্বলতা নিয়ে আমি মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। যাক, আমরা দু’জনাই অন্তত একটি কথা রেখেছি।

Comments