মাইক্রো হ্যাবিট: যেটা আপনার জীবনকে পাল্টে দিতে পারে! লাইফ হ্যাক ১


নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে মাইক্রো হ্যাবিট হল এমন সব অভ্যাস যা একদমই চোখে পড়ে না, খুবই কম সময়ের কোন কাজ। যেমন ধরেন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন ‘আমি প্রতিদিন ৫ পাতা করে কোন বই থেকে পড়বো’, এটা করতে আপনার সময় লাগবে হয়তো বড়জোর ৫ মিনিট। কিংবা ঠিক করলেন, ‘আমি প্রতিদিন দুইটা করে নতুন শব্দ শিখবো’ । এরকম অভ্যাস এত কম আয়াসের এবং সময়ের যে আপনার দৈনন্দিন জীবনে তেমন কোন পরিবর্তন অন্যরা তো দূরে থাক আপনি নিজেও টের পাবেন না।
কিন্তু এসব ছোট ছোট অভ্যাসই অনেক বড় বড় পরিবর্তন ( মানে আকাঙ্খিত পরিবর্তন) নিয়ে আসতে পারে আপনার জীবনে। লাইফ হ্যাকাররা ইদানিং এই কথাটাই বেশ জোরেসোরে বলছেন নানা বইপত্র ও সাইটে।
কিভাবে মাইক্রোহ্যাবিট আপনার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে তার ব্যাখ্যা হল, আপনি যখন সত্যি সত্যিই কাজটা প্রতিদিন করা শুরু করবেন, একসময় সেটা আপনার অভ্যাস হয়ে যাবে। অভ্যাস খুব রহস্যময় একটা জিনিস, একটা অভ্যাস সেটা যত ছোটই হোক সেটা তৈরি করা বেশ কঠিন, আর একবার সেটা হয়ে গেলে ত্যাগ করা আরও কঠিন । বড় কোন কাজকে অভ্যাসে পরিণত করা তো ভয়ংকর কঠিন, তাই একদম ছোট কোন কাজকে টার্গেট করে নেয়া ভাল, তাহলে সফল হওয়ার চান্স বেড়ে যায়।
যেমন আপনি প্রতিদিন ৫ মিনিট বইপড়া শুরু করলেন। একটা তথ্য মতে এটা যদি আপনি টানা ২১ দিন চালিয়ে যেতে পারেন তাহলে এটা আপনার অভ্যাস হয়ে যাবে। তারপর আপনি চাইলে এই রিডিং টাইমটা বাড়াতে পারেন। যেদিন আপনার হাতে সময় আছে সেদিন আধা ঘন্টা এক ঘন্টা পড়লেন, যেদিন নাই সেদিন ৫ মিনিটই পড়েন। এবং দেখা যায়, অভ্যাসটা হয়ে যাওয়ার পর আপনার পড়ার পরিমান আস্তে আস্তে বাড়বে, কমবে না কখনোই। ছোট্ট একটা অভ্যাস আপনার রিডিং হ্যাবিটই চেঞ্জ করে দিতে পারে।
এভাবে আপনার প্রয়োজন মাফিক নানা ধরনের অভ্যাস আপনি রপ্ত করতে পারেন। যেমন, আমি লেখালেখি করি। আমার মাইক্রো-হ্যাবিট প্লান হচ্ছে প্রতিদিন অন্তত একপাতা করে লেখা। এই অভ্যাসটার জন্যই হয়তো নানা ব্যস্ততায় থাকা সত্ত্বেও গতমেলাতেও আমার তিনটা বই প্রকাশ হয়েছে। ( এমনকি এই পোস্টটাও দিচ্ছি ওই একপাতা লিখতে হবে আজকে সেই গরজ থেকে)
আপনি হয়তো ওজন কমাতে চাচ্ছেন। কিছুতেই পারছেন না। আপনি একটা মাইক্রোহ্যাবিট রপ্ত করলেন যে, প্রতিদিন রাতে খাবারের আগে আমি একটা আস্ত শসা বা গাজর খাব, তারপর আমি রাতের খাবার খাব। খুবই ছোট্ট একটা ব্যাপার, এই অভ্যাস তৈরি করতে কারো সমস্যা হবার কথা না। একটা সময় দেখা যাবে, আপনি এই শসা বা গাজর না খেয়ে পারছেন না- আর এটার কারনে রাতের খাবার কিছুটা হলেও কম খাওয়া হচ্ছে। আপনার একটা অভ্যাসে অনেকখানি ওজন কমে যাবে।
অনেকবার জিমে ভর্তি হয়েছেন, কিন্তু কোনবারই রেগুলার হতে পারেননি। ( এটা আমার ক্ষেত্রে বেশ ভাল রকম হয়েছে, ঢাকা-সিলেট মিলিয়ে চার-পাঁচবার ভর্তি হয়েও কন্টিনিউ করতে পারি নাই)। আপনি একটা মাইক্রোহ্যাবিটের আশ্রয় নিন- প্রতিদিন অন্তত জিমের দরজা বা ভবন পর্যন্ত যাবেন, ব্যায়াম করার ইচ্ছা না থাকলেও। দশদিন এরকম করার পর একদিন নিশ্চয়ই ইচ্ছা হবে একটু হাত-পা খেলিয়ে আসি ভিতরে গিয়ে।
এমন ভাবে আপনি আপনার প্রয়োজন মাফিক নানা ধরনের মাইক্রো-হ্যাবিট রপ্ত করতে পারেন, নতুন যে কোন কিছু শিখতে পারেন, প্রতিদিন ৫ মিনিট পজিটিভ চিন্তা করতে পারেন, প্রতিদিন একজন করে পুরাতন বন্ধুদের খোঁজ নিতে পারেন ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে। এবং এসব অভ্যাস শীঘ্রই আপনাকে পরিবর্তন করে দিতে পারে অনেকাংশেই।

২য় পর্বে বলবো, কিভাবে মাইক্রোহ্যাবিট নিয়ে প্লানিং করবেন এবং ফেসবুকসহ অনেক কিছুর অ্যাডিকশন মাইক্রোহ্যাবিট দিয়ে কিভাবে দূর করতে পারবেন সেসব সম্পর্কে । সে পর্যন্ত ভালো থাকুন!

Comments

  1. ২য় পর্বের অপেক্ষায়

    ReplyDelete

Post a Comment