বই: যদি একে রূপকথা বলি। অহনা বিশ্বাস


কবি ও লেখক অহনা বিশ্বাস বীরভূমের একটি আদিবাসী গ্রামে দীর্ঘদিন থেকেছেন, খুব কাছ থেকে তাদের একজন হয়ে দেখেছেন সাঁওতাল জীবন। সে অভিজ্ঞতারই নির্যাস যেন বইটি। বইটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ( একটা চ্যাপ্টার বাদে) একজন এক আদিবাসী নারীর বর্ণনায় নিজস্ব ভঙ্গিতে বলে যাওয়া। ঠিক যেন অহনা বিশ্বাস-কে শুনাচ্ছেন নিজ স্বপ্ন আর সংগ্রামের কথা, প্রেমের কথা, দিকুদের থেকে তাদের জীবন কতটা ভিন্ন সেসব কথা।
দিদি সম্বোধন করে অধ্যায়ের পর অধ্যায় সে বর্ণনা করে যায় তাদের জীবন, যে জীবন যতটা স্বাধীন আবার ততটাই শেকলে মোড়া, হান্ডি খেয়ে ওরা রাতের পর রাত মাতাল হয়ে পড়ে থাকে, টামাক বাজায় মনের আনন্দে, নদীর ধারে ঝিনুক কুড়াতে যায়, রকুইচন্দন গাছের শাখায় চাঁদ উঠলে গলা ছেড়ে গান গায়। পুরো পৃথিবীর সব আদিবাসীর মতই দিকুদের সাথে ওদের বিবাদ, দিকুরা ওদের ফরেস্ট গার্ড দিয়ে জমিজমা কেড়ে নেয়, ওদের এলাকায় হোটেল তোলে, সেখানে কাজের লোভ দেখিয়ে ওদের বেঁচে দেয়, পয়সা গছিয়ে জমিজমা কেড়ে নেয়। পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় নতুন নতুন গল্প, কোনটা দেবতা বোঙাকে দর্শনের ঘটনা, কোনটায় পাশের পাড়ার চাপলু বুড়োর কীর্তি, কখনো প্রেম-বিয়ে, এসব নিয়ে ওদের নিজস্ব ধ্যান-ধারনা যেটায় শ্রোতা অবাক হতে পারে ভেবে নিজ থেকেই বলা,‌' আমাদের অমন হয় দিদি!' তাদের সরল জীবনে কেউ কাউকে অবিশ্বাস করলে বোঙাথানে গিয়ে দেবতার নামে শপথ করে কথাটা বললেই সবাই মেনে নেয়, দশজনকে পেটপুড়ে হান্ডি খাওয়ালেই সবাই খুশি!
বিবেকানন্দ সাঁতরার ইলাস্ট্রেশনে কলকাতার গাংচিল থেকে প্রকাশিত বইটা আমাদের দেশে পাওয়া যাবে অঙ্কুর প্রকাশনীতে।

Comments